বিএনপি জমিয়তকে চারটা আসন ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু তারা একটা আসনেও জিততে পারে নাই।
-গতকাল একজন এমন কমেন্ট করলেন আমার কমেন্টের রিপ্লেতে।
এখন কথা হল যে, আসন ছেড়ে দেওয়ার মানে কী?
আসন ছেড়ে মানে হল যে, এই আসনে আমার দলের কোনো প্রার্থী দাঁড়াবে না। আমাদের দলের কর্মীরা আপনাদের প্রার্থীকে এই আসন থেকে জয়ী করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। বিনিময়ে অন্যান্য আসনে আপনারা আমাদের প্রার্থীকে জয়ী করার চেষ্টা করবেন।
তো জমিয়ত কিন্তু বাকী ২৯৫ আসনে বিএনপিকে জয়ী করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। যত রকমের কষ্ট স্বীকার করা যায়, সব করেছে। কিন্তু জমিয়তের আসনগুলোতে হয়েছে তার উল্টোটা। প্রতিটা আসনে বিএনপির শক্তিশালী বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল। যে বিদ্রোহীরা অল্প কিছু ক্ষেত্র ছাড়া স্থানীয় বিএনপির সাপোর্ট পেয়েছে। অথচ জোট হিসেবে স্থানীয় বিএনপির সাপোর্ট পাওয়ার কথা ছিল জমিয়তের প্রার্থীদের।
বিএনপির সেন্ট্রাল কমিটি এগুলো নিয়ে সমন্বয় করার কাজ করে নাই। কাজ করার তাড়নাও তাদের মধ্যে ছিল বলে মনে হয় না। এখন তো তারা নির্বাচনে জিতে গেছে। তাই এসব নিয়ে তাদের না ভাবলেও চলবে। কিন্তু নির্বাচন সামনে আরও আছে এবং সময় সবসময় সবার সমান যায় না। এই ইতিহাস বারবার ঘুরে ফিরে সামনে আসবে।
ব্যক্তিগত আমি কখনো ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত হতে চাই না। সেই হিসেবে কখনো জমিয়তের সাথে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই আমার। কিন্তু এবার মানে ৫ই আগস্টের পরে জমিয়তের প্রতি মারাত্মক দুর্বল হয়ে পড়েছিলাম। কারণ, একটি দল যেখানে দেশের মধ্যে স্থায়ী বিভাজন তৈরি এবং ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ চাপিয়ে দিতে চাইছিল, তখন জমিয়ত ধর্মীয় অঙ্গন থেকেই তাদের ঠেকিয়ে দিয়েছে। জমিয়তের কারণেই সেই ঘৃণিত দলটি নিজেদেরকে ইসলামের হোলসেল ডিলার দাবি করতে পারেনি